পিত্তাশয়

পিত্তাশয় (ইংরেজি: Gallbladder) অথবা পিত্তথলি বা পিত্তকোষ পরিপাকতন্ত্রের একটি নাশপাতি আকৃতির ফাঁপা অঙ্গ যা যকৃতের ডান খন্ডের নিম্নতলে উদরের আবরক ঝিল্লিহীন খাঁজে তির্যক ভাবে অবস্থান করে।এটি পোর্টা-হেপাটিস এর ডান প্রান্ত থেকে যকৃতের নিম্নকিনারা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭-১০ সেঃমিঃ এবং প্রস্থ ৩ সেঃমিঃ;খাদ্য পরিপাকে ব্যবহারের জন্য একবারে প্রায় ৩০-৫০ মিলিলিটার পিত্তরস ধারণ করে রাখে। পিত্তের কারণে এটির রং গাঢ় সবুজ দেখায়। এটি পিত্তনালীর মাধ্যমে যকৃৎ ও ডুওডেনামের সাথে যুক্ত।

পিত্তাশয়
Gallbladder is #5
বিস্তারিত
অগ্রদূতForegut
তন্ত্রমানব পরিপাকতন্ত্র (GI Tract)
ধমনীসিস্টিক ধমনী
শিরাসিস্টিক শিরা
স্নায়ুCeliac ganglia, vagus[1]
শনাক্তকারী
MeSHA03.159.439
দোরল্যান্ড
/এলসভিয়ার
g_01/12383343
টিএA05.8.02.001
এফএমএFMA:7202
শারীরস্থান পরিভাষা

গঠন

পিত্তাশয়কে গঠনগত দিক থেকে নিচ থেকে উপরে ফান্ডাস, দেহ, গ্রীবা এই তিন অংশে ভাগ করা যায়।

♦ফান্ডাসঃ এটি পিত্তাশয়ের সর্বনিম্নের অংশ যার কিছু অংশ যকৃতের নিচে অভিক্ষিপ্ত থাকে। এটি সামনের দিকে ডানদিকের নবম পর্শুকার তরুণাস্থির অগ্রভাগের ঠিক নিচে থাকে। এবং পেছন দিকে থাকে অনুপ্রস্থ কোলন।

♦দেহঃ ফান্ডাস থেকে গ্রীবা পর্যন্ত অংশটি দেহ। ফান্ডাসসহ দেহের দুই পাশ ও নিম্নতল পেরিটোনিয়াম দিয়ে আবৃত থাকলেও উপরিতল আবরণ বিহীন।

♦গ্রীবাঃ দেহ থেকে সিস্টিক নালী পর্যন্ত অংশটি গ্রীবা। এটি কিছুটা ইংরেজি S আকৃতির বাঁক তৈরি করে।[2]

রক্ত সরবরাহ

এটি সিস্টিক ধমনীর মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ পায় যা হেপাটিক ধমনীর ডান শাখা থেকে উদ্ভূত। সিস্টিক শিরার মাধ্যমে রক্ত সরাসরি পোর্টাল শিরায় যায়।[3]

স্নায়ু সরবরাহ

প্রধানত সিম্প্যাথেটিক স্নায়ু সিলিয়াক ও হেপাটিক প্লেক্সাস এর মাধ্যমে স্নায়ু অনুভূতি প্রদান করে। পিত্তশয়ে প্রদাহ হলে মাঝে মাঝে ডান কাঁধে ব্যথা অনুভুত হয় এর কারণ হল ডান ফ্রেনিক নার্ভ এর কিছু তন্তু ফ্রেনিক ও হেপাটিক প্লেক্সাসের মধ্য দিয়ে পোষ্ট-গ্যাংলিওনিক সিম্প্যাথেটিক ফাইবার বহন করে পিত্তাশয়ে স্নায়ু সরবরাহ প্রদান করে।[4]

পিত্তাশয়ের কাজ

পিত্তাশয় যকৃৎ থেকে নিঃসৃত পিত্তরসকে ধারণ করে রাখে এবং এর ঘনত্ব যকৃতের চেয়ে দশগুণ বাড়ায়। পিত্তরসের ক্ষারত্ব কমায়। চর্বিযুক্ত খাবার ডিউওডেনামে আসলে এর মিউকোজা স্তর থেকে কোলিসিস্টোকাইনিন হরমোন ক্ষরণ হয় যা পিত্তাশয়কে সংকোচিত করে এবং ওডির স্ফিংটার শিথিল করে ফলে পিত্তরস দ্রুত ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে। পিত্তাশয় আবশ্যকীয় অঙ্গ নয় কারণ সার্জারি করে এটি কেটে ফেললেও যকৃৎ এর কাজে সমস্যা হয় না, মানুষ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। [5]

পিত্তাশয়ের রোগ

কোলেসিস্টাইটিস বা পিত্তাশয়ের প্রদাহ।

পিত্তপাথুরী পিত্তাশয়ে পাথর।

★ পিত্তাশয় টিউমার।

  1. Ginsburg, Ph.D., J.N. (২০০৫-০৮-২২)। "Control of Gastrointestinal Function"। Thomas M. Nosek, Ph.D.। Gastrointestinal Physiology। Essentials of Human Physiology। Augusta, Georgia, United State: Medical College of Georgia। পৃষ্ঠা p. 30। ২০০৮-০৪-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৭-০৬-২৯
  2. A K DATTA,Presenting parts gallbladder,Essentials of Human Anatomy;Thorax & Abdomen;ISBN 81-86793-64-X
  3. Richard S Snell;Clinical Anatomy By Regions;ninth edition;page-193;ISBN ৯৭৮-১-৬০৯১৩-৪৪৬-৪
  4. A K DATTA,nerve supply of gallbladder,Essentials of Human Anatomy;seventh edition;ISBN 81-86793-64-X
  5. A K DATTA,functions of gallbladder,essentials s of Human Anatomy;seventh edition;ISBN 81-86793-64-X
This article is issued from Wikipedia. The text is licensed under Creative Commons - Attribution - Sharealike. Additional terms may apply for the media files.